আন্তর্জাতিক
১৮ হাজার স্বেচ্ছাসেবীর সেনাবাহিনীতে যোগদান-কিয়েভের
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের বাসিন্দারা তাদের শহরকে রক্ষায় সংকল্পবদ্ধ। রাশিয়ান বাহিনী যতই কিয়েভের অভ্যন্তরে ঢোকার চেষ্টা করছে, ততই যেন শক্ত হচ্ছে ইউক্রেনীয় নাগরিকদের সংকল্প। নীল-হলুদ জাতীয় পতাকা দেখা যাচ্ছে সর্বত্র। শুধুমাত্র রাজধানী কিয়েভেই ১৮ হাজার স্বেচ্ছাসেবী সেনাবাহিনীর সাথে যোগ দিয়েছে তাদের শহরকে রক্ষার লড়াইয়ে।
মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের বাসিন্দারা কাটাচ্ছিল স্বাভাবিক একটি জীবন। সড়কের দোকানগুলি ছিল জমজমাট, স্কুলগুলো ছিল শিক্ষার্থীদের কোলাহলে পূর্ণ। অফিস ডেস্কে ব্যস্ত সময় পার করছিল মানুষ।
রুশ আগ্রাসনের ফলে সব বদলে গেল। রাজধানীর পার্কগুলি পরিণত হয়েছে সামরিক যানবাহন পার্কিংয়ের জায়গায়। বুটিক, ক্যাফে এবং অভিনব রেস্তোরাঁর সারিবদ্ধ শপিং এলাকাগুলোর চেহারা পাল্টে এখন বালির ব্যাগ এবং কংক্রিটের ব্লকে ঘেরা।
আক্ষরিক অর্থেই জীবনের জন্য লড়াই করতে, কিয়েভের বেসামরিক নাগরিকরা পরিণত হয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সৈন্যে। অল্প এই সময়েই সামরিক দক্ষতার সাথে প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করে রক্ষা করছে তাদের এই প্রিয় শহরকে। স্বেচ্ছাসেবী সৈন্য হিসেবে যোগ দিতে এত বেশি আবেদন জমা পড়েছে যে টেরিটোরিয়াল ডিফেন্স ফোর্স অনেককেই ফেরত পাঠাতে বাধ্য হয়েছে।
জনৈক স্থানীয় জানায়, আমার একটি মাত্র ছেলে। সেই আমার সবকিছু। আপনাদের বুঝতে হবে নিজের সন্তান থাকলে তাকে রক্ষা করাই প্রধান কাজ। প্রতিটি পিতামাতাকে অবশ্যই তাদের সন্তানদের রক্ষা করতে হবে। কিন্তু আমরা এখানে জীবন ঝুঁকি নিয়ে একসাথে আছি কারণ এটিই আমাদের সিদ্ধান্ত। মাতৃভূমিকে রক্ষা করার আমাদের আর অন্য কোন উপায় ছিল না, আমাদের সবার আগে আমাদের মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে হবে।
কিন্তু যারা বাহিনীতে যোগ দিতে পারেনি তারাও সাহায্য করছে অন্য উপায়ে। কেউ তৈরি করছে ককটেল, কেউবা ব্যারিকেডের জন্য তৈরি করছে নানা সরঞ্জাম। এছাড়া সৈনিকদের জন্য খাবার, গরম পানীয় এবং সিগারেট বিতরণে বিরত নেই কোন নাগরিক। যৌথ এ প্রচেষ্টায় শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাশিয়ান বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে তারা সামরিক বাহিনীর জন্য অর্থ সংগ্রহ করছে। রাস্তায় তৈরি করেছে ব্যারিকেড।
যে কোনো যুদ্ধে শহরের কেন্দ্রের প্রতিরক্ষা সবচেয়ে শক্তিশালী হয়। কিন্তু কিয়েভের বাইরের চেকপয়েন্ট গুলোতে অবস্থান করছে অভিজ্ঞ সৈনিকরা। ট্যাংক এবং ভারি অস্ত্র নিয়ে শহরের কেন্দ্রে অবস্থানে আছে স্বেচ্ছাসেবী সৈন্যরা।
এদিকে ইউক্রেনের প্রবল প্রতিরোধের মুখেও রুশ সেনাবাহিনী দেশটির রাজধানী কিয়েভ থেকে ৩ মাইলের মধ্যে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা। অন্যদিকে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আবারো সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। যে কোনো সময় আলোচনায় বসতে ইউক্রেন প্রস্তুত বলে জানিয়েছে তার সহযোগী।
এর আগে, মারিওপোলে শিশু হাসপাতালে রুশ হামলার পর আবারো ন্যাটোর কাছে নো ফ্লাই জোনের আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
এদিকে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে রুশ হামলার তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। এরমধ্যে পোল্যান্ড সীমান্তবর্তী লুৎস্ক শহর রয়েছে।
জেলেনস্কির এক ঘনিষ্ট সহযোগীর বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, অন্তত তিনটি শহরে ভারি বিস্ফোরণের তথ্য মিলেছে। এ প্রসঙ্গে রেড ক্রস জানিয়েছে, অবরুদ্ধ শহর মারিওপোলে কমেছে খাদ্য ও পানির সরবরাহ।
ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৪ লাখের বেশি বেসামরিক নাগরিককে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতিবাদ জানানোর সুযোগ দিতে অস্থায়ীভাবে নিয়ম পরিবর্তন করেছে ফেসবুক ও টুইটার।

0 Comments